ছবি নিয়ে : শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়

অলকাতিলক, একটি শিল্পিক স্বগতোক্তি অথবা কলোনীয়াল লেগাসী

ছবি কেবল একটিই জিনিস চায় একজন শিল্পীর কাছে, সময়। আর কিছু নেই তার কাঙ্খিত।তুমি তোমার ছবি কে সময় দাও তোমার ছবি তোমাকে আনন্দ দেবে। ভাবতে চাও! কত ভাববে? গোটা পৃথিবী আছে দেখার, ভাববার; তার বাইরে চাঁদ আছে, তার ওই দিকে মঙ্গল আছে, সূর্যের দিকে বুধ, আকাশ গঙ্গা তার বাইরে প্রক্সিমা… কতো কতো না জানি কি কি! স্পেস ছাড়া আর কি আছে ভাবার ও দেখার এদিক ছবি শুধু চায় সময়। সত্যিই তো যখন আঁকি বুঝতে পারিনা কখন কোথা দিয়ে সময় পাড়ি দেয়।শুধু একমনে ছবিটাই আঁকতে পারি। কিন্তু বাধ সাধল সেদিন যেদিন ছোট থেকে আঁকা সমস্ত ছবি, জমানো সকল ছবি, বইপত্র, লেখা, হাজি বাজি, এইটা-ওইটা, স্কেচ বুকগুলো, স্টাডি, ফটোগ্রাফ সব বাক্সবন্দী করে টেনে টেনে নিয়ে গিয়ে মাঝরাতে দিলাম ছুঁড়ে ফেলে নদীতে- করলায়। আর যেই সে সব গেল জলে, আমি নিজেও পড়লাম এক অথৈ তিক্ত জলে। এবার আমি কি আঁকবো? ভেবেছিলাম প্রথম হয়ত এই প্রশ্নটাই আসবে মাথায়, কিন্তু নিজেকেই অবাক করে দিয়ে যা এলো মাথা ফুঁড়ে, প্রশ্ন তো নয় যেন দানব। আমি কেন আঁকবো? এবার আমি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে, অতঃপর এর পরেরটুকু যা তা স্পেসের ধারণা নাকি আত্মহত্যার কেস স্টাডি তা পাঠক আপনি নিজেই বিচার করবেন-

শেষ দিনে এসে চিতার পাশে দাঁড়াবে ?

দাহ করে ফিরে সন্তানকে চিনিয়ে দিও অরিয়ন

মাকে বলে চলেছি কবর ছাড়া অন্যকিছু নয় কিন্তু

কেমন বোকার মতো তাকিয়ে থাকে

কি জানি ! হয়তো ভাবে

শামুখ এতো ভয় পায় মেয়েটা,

পিঁপড়া মারে অকারণে

একদিনতো বলেই দিল, ওসব হবেনা রে

মাটির নীচে তোর ঠাণ্ডা লেগে যাবে

তুমি বরং সেখানে নেমে মাফলার দিয়ে এসোতোমার রুমাল রেখে আসবে পাশেকিছু হারালে গিঁট দেবো, অন্ধকারে ঠিক টেপজামা হারিয়ে ফেলবো তুমি জানো,

একটা পায়ের মোজাও খুঁজে পাচ্ছিনা

শরীর খারাপ করলে ডাক্তার সেখানে যেতে পারবেনা, এই যা মঙ্গল

আচ্ছা মাটির নীচে কি বালি থাকে ? নাকি কেবলই তাল তাল মাটি !

কিছু বালি একটা কাগজে মুড়ে নিয়ে যেও

রেখে এসো মাথার দিকটায়

C:\Users\user\Desktop\JUNE 2016\New Picture 3.bmp

ছোটবেলার সেই খেলাটা খেলবো

মা চিল্লিয়ে গলা চিরে ফেলছে

গরম জল ঠাণ্ডা হয়ে বরফ হয়ে যাবে এবার…

উঠলি তুই অইখান থেকে… আর আমি থেবড়ে বসে, বাগানের বালি, একটু দানা দানা; বাগানের সেই বালি এনে উঠনে পা ছড়িয়ে বসে মাথায় ঢালছি। স্নান সেরে উঠে সারা বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যামাথায় আঙুল খুঁচিয়ে সে বালি টেনে টেনে আনবো আর মাটির তল থেকে চুলগুলো সব উঠে আসবে উপরের দিকে, ধরো একটা গাছ মাটির তলায় পুঁতলাম আর সে গাছ শিকড় ছড়িয়ে পৌঁছে গেল আকাশের কাছাকাছি। কিছু পাখী তখন সন্ধ্যায় বাড়ী যাওয়ার পথে আমার চুলের শিকড়ে বসে ডাকবে… ঠাকুর গোপাল…

ঠো… ঠো… ঠো…

এই পাখীটা ডাকলে বাবার গন্ধ ছড়িয়ে যায়

অস্থির অসাড় ধড়ফড় করে ঘুমের ভিতর উঠে বসে বিছানায়

সারাদিনের বিভ্রান্তির ঘোর কাটিয়ে বাজারে যায়

ঐ একটাই সেবা দিয়েছে পাখীটা নিয়ম মেনে জিন্দেগিভর

বাজার থেকে কাঁকড়া আসতো

বর্ষার জল ডোবায় উপচে উঠলে

ট্যামন কোঁচা নিয়ে কাঁকড়া মারতে বের হয়

ট্যামনের একটা লিকলিকে মন ছিল

আর ছিল ট্যারা দুই চোখ।

দুই চোখ ট্যারা হলে বুঝি কারো নাম ট্যামন

দিতে হয় ? বাতাসা লুকিয়ে রাখতাম।

সারা বিকেল বর্ষার জলে বাতাসা মুঠি করে ড্রেনের পাড়েটা কী খুঁজতাম। আঠা থিকথিকা হাতের তালু থেকে বাতাসা তুলে মুখে পুড়েই সুতো ধরিয়ে দিতো ট্যামন… বলতো বড় হয়ে তোকে একদিন একটা জাল আমি ঠিক কিনে দিবো। হেব্বি হবে মাইরি! তুই আর আমি জাল ছড়াবো মতির ডোবায়। সুতায় টান পড়ত… লাল এক কাঁকড়া সন্ধ্যার ভরা ড্রেনের ধার ঘেঁসে মতির মতো চকচকে জলের আলো গায়ে মেখে হেঁটে হেঁটে বাড়ী ফিরত। এরপর কিছু দিন ড্রেন- ডোবা- রাস্তা একাকার হয়ে বৃষ্টি হল খুব। অনেক বৃষ্টির সময় মাটির তলে কি হয় ? হড়হড় করে জল নামে ? কবরের সবাই বুঝি স্নান করে সেই জলে। অত অন্ধকারে স্নানের পরে গামছা কোথায় পাব বল’তো ! চিরুনিটাই বা কোন বইয়ের ভাঁজে রেখেছো মনে কি আর আছে ? বৃষ্টি কমতেই ট্যামন এসে বললো-