সম্পাদকীয়


রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে ছেলেটা একটা মুরগীর দোকানে ঢুকল। বোর্ডে লেখা – কাটা – ১৪০, গোটা – ১২০। দোকানদার একহাতে চপার, অন্যহাতে আধপোড়া বিড়ি নিয়ে বলল, কতটা ? বিড়িটা ছুঁড়ে ফেলতে গেল, অমনি ছেলেটা চপার কেড়ে নিয়ে কুচি কুচি করে ওরই হাতের আঙ্গুলগুলো কেটে দিল। চপারটা রেখে বলল, আড়াইশো ... দোকানদার অজ্ঞান হতে ভুলে গিয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। ছেলেটা ওকে বলল, ডোন্ট ক্রাই বেবি ... এবার দোকানদার চিৎকার করতে যাবে ... সে বেরিয়ে এলো মুরগীর দোকান থেকে ... আবারও বিরক্তিকর দুলকি চালে হাঁটা ... ভাসমান বোল্ডারের উপর পা ফেলে ফেলে শেষমেশ ঝর্ণাটা পেরলো । তখনও বৃষ্টি হচ্ছে। অফিসের সামনে হাঁটু জল। এ রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাবে না। ঘুর পথে যেতে হবে। প্রায় আরও পাঁচ মিনিট ... বৃষ্টিতে নিশ্চয়ই এ’বাড়ির আন্ডার গার্মেন্ট ব্যলকনি পেরিয়ে ও’বাড়ির আন্ডার গার্মেন্টের সাথে গল্প করে। বৃষ্টি ছাড়া ওরাই একমাত্র নৈঃশব্দ্য তৈরি করতে পারে ...

এভাবেই হয়ত গল্প তৈরি হয়। বা আমাদের বেঁচে থাকায় গল্প জুড়তে থাকে।

তফাৎটা হল বেঁচে থাকার গল্পে এক তরঙ্গ থেকে অপর তরঙ্গে যাওয়ার সময়টা ডেক চেয়ারে শুয়ে থাকে সঠিক আলোর অপেক্ষায়। আর গল্পে পয়গম্বরী বেশি। তার ঝালা থেকে আলাপ ... তরঙ্গ থেকে তরঙ্গে মিলিয়ে যায় ...

এবারে ইন্ডিয়ারিতে গল্প সংখ্যা।

আসুন পাঠক, আমরা তরঙ্গে নিমজ্জিত হই ... ডেক চেয়ারের ক্ষণিক স্থবিরতাকে বাহ্ .. বলি মুচকি হেসে ...

- দেবাঞ্জন দাস।