গল্প : অলোকপর্ণা

বিপ্লব

বিপ্লব কি করে, কি খায়, কি পড়ে, কি পরে কেউ জানেনা, তবুও...

অন্ধকারের আড়াল থেকে বউটাকে বাসন মাজতে দেখছেন শতদল মিত্র। ছাই দিয়ে ঘষে ঘষে সে হাঁড়ি থেকে কালো কয়লার দাগগুলো তুলে ফেলার চেষ্টা করছে। বালতি থেকে মগে করে জল তুলে আদর করে ধুয়ে দিচ্ছে হাঁড়ির শরীর। শতদল ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন তার দিকে।

“কাল সকালেই তো আবার দাগ পড়বে ওর গায়ে”

বউটা চমকে তাকায় শতদল মিত্রের দিকে, “আফনে? আফনে কে? আমায় চিনেন?”, বউটা মাটিতে হাঁড়ি রেখে উঠে শাড়ি ঠিক করে দাঁড়ায়।

শতদল তার কাছে এগিয়ে যেতে যেতে গেয়ে ওঠেন, “আমার অঙ্গে অঙ্গে কে বাজায়, বাজায় বাঁশি”

বউটা চিৎকার করে ওঠে, “আমি চিৎকার করমু কিন্তু!”

শতদল মিত্র ঝাঁপিয়ে পড়েন বউটার উপরে, প্রচন্ড ডানা ঝাপটানোর সাথে সাথে একসময় বউটা স্থির হয়ে আসে, শুধু তার গোঙানি শোনা যায়।

কাজ শেষ করে শতদল মিত্র উঠে দাঁড়ান, উপরে তাকিয়ে প্যান্টের চেন আটকাতে আটকাতে দেখেন জ্বলন্ত বাল্বের আলো এসে পড়ছে তার মুখে, বাঁ হাত দিয়ে বাল্বটা খুলে ফেলেন ধীরে ধীরে, তাঁর বাঁ হাতের আঙুলগুলোয় ফোস্কা পড়ে যেতে থাকে। বাল্বটা খুলে বৌটার পাশে মাটিতে আছড়ে ফেলেন তিনি, সশব্দে বাল্বটা ফেটে যায়, বৌটা গোঙানি থামিয়ে হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে।

শতদল মিত্র শব্দ করে নাক টানেন, তারপর থুতু ফেলেন বউটার গায়ে।

ঘরে ঢুকে এসে জয় দেখে শতদল তখনও দেওয়ালের দিকে পাশ ফিরে শুয়ে আছেন। ব্যাগ, মোবাইল, ঘড়ি টেবিলে খুলে রাখতে রাখতে জয় ডাকে, “দাদা, আজ অফিস যাবেন না?”

শতদল মিত্র সাড়া দেন না।

জয় শতদলের বিছানার কাছে এসে দাঁড়িয়ে আবার ডাকে, “দাদা, সাড়ে দশটা বেজে গেছে, উঠুন”

পাশ না ফিরেই শতদল বলেন, “তোমার কলেজ নেই আজ?”

“আছে, কিন্তু আজকে আমরা স্ট্রাইক করছি”

“ও”, বলে চুপ হয়ে যান শতদল।

জয় বলে চলে, “আপনি ভাবতে পারছেন, ডালের দাম কত হয়ে গেছে! পেঁয়াজ! মধ্যবিত্ত মানুষ চাল ডাল টুকু পর্যন্ত খাওয়ার অবস্থায় নেই”

শতদল বলেন, “হুম”

“আজ তো অফিসে যাচ্ছেন না, চলুন না আমার সাথে, দূর থেকেই না হয় শুনবেন”

শতদল মিত্র বসে আছেন কলেজের উলটো দিকের একটা চায়ের দোকানে। বেঞ্চে তার পাশে একটা ভাঁড়ে চা রাখা আছে। কলেজের সামনে ছাত্রছাত্রীদের ভিড়। জয়ের গলা শোনা যাচ্ছে, সে বলছে, “আমাদের দুর্নীতিগ্রস্থ সরকার প্রতিদিন আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার, আমাদের সাংবিধানিক অধিকার, আমাদের জন্মগত অধিকারকে খর্ব করে মুনাফা লুটে চলেছে, বন্ধুগণ আমি চাইবো এই মুহূর্তে, দেশের সকল সচেতন নাগরিক সম্মিলিত হয়ে আসুন প্রতিবাদ জানাই! আসুন এই বুর্জোয়া সরকারের কালো হাত গুঁড়িয়ে দিই!”

শতদল সম্মিলিত হর্ষধ্বনি শুনতে পান। জয়ের গলা শোনা যায় আবার, “বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক! ইনকিলাব জিন্দাবাদ! ইনকিলাব জিন্দাবাদ! শ্রমজীবী মানুষ, শোষিত মানুষ, এক হও! ইনকিলাব জিন্দাবাদ!”

সম্মিলিত কন্ঠঃ জিন্দাবাদ! জিন্দাবাদ!

শতদল মিত্র চা শেষ করে ভাঁড়টা বেঞ্চে নামিয়ে রাখেন।

সাথে সাথে একটা পুলিশ ভ্যান এসে দাঁড়ায় কলেজের সামনে, চোখের নিমেষে ভিড় পাতলা হয়ে যায়। শতদল মিত্র বলেন, “আরেকটা চা”

গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে শতদল দেখলেন পুলিশ জয়কে ভ্যানে তুলে নিয়ে চলে গেল।

থানা থেকে বেরিয়ে পাশাপাশি হেঁটে চলেছেন শতদল মিত্র আর জয়। শতদল গুণগুণ করে গাইছেন আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ। জয় বলে, “আপনি এলেন কেন?”

গান থামিয়ে শতদল বলেন, “কি করতে জেলে থেকে?”

“ইন্সপায়ার করতাম দলের ছেলে মেয়েদের!”

“ইন্সপায়ারড হয়ে ওরা কি করত?”

“এগিয়ে যেত, লড়াই চালিয়ে যেত!”

“লড়াই করে কি হবে?”

“বিপ্লব আসবে শতদলদা! বিপ্লব! আপনি দেখতে পাচ্ছেন না! আমি তো চোখ বুজলেই দেখতে পাই সবুজ ক্ষেতের উপর দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে ছোটো ছোটো ছেলে মেয়ে, সবার হাতে মশাল, আগুন জ্বলছে তাতে।”

শতদল মিত্র দেখেন জ্বলজ্বল করছে জয়ের চোখ, তিনি আবার গুণগুণ করে গেয়ে ওঠেন খুশি রই আপন মনে... “আচ্ছা জয়, বিপ্লবটা কে? কি? খায়, পরে না মাথায় দেয়!”

জয় দাঁড়িয়ে পড়ে, অবাক হয়ে তাকায় শতদল মিত্রের দিকে। “আপনি বিপ্লবে বিশ্বাস করেন না?!”

শতদল অল্প হাসেন, বলেন, “যাকে চোখেই দেখিনি, তার আসার কথাই শুধু শুনে এসেছি, কি করে মানবো তাকে, বলোতো...”

জয় অল্প অল্প এগিয়ে আসে শতদলের দিকে, তার খুব কাছে এসে, একটা হাত তুলে তার বুকে ঠেকিয়ে ধরে, “কিছু বুঝতে পারছেন?”

শতদল টের পান জয়ের হৃৎপিণ্ড ধক ধক ধক ধক করছে তার হাতের নীচে। হঠাৎ তার খুব লোভ হয়। “হ্যাঁ, তোমার হৃৎপিণ্ড”

“জানলেন কি করে? দেখেছেন কোনোদিন? সবাই বলে তাই জানেন? না কি, অনুভব করলেন?”

শতদল জয়ের চোখে চোখ রেখে বলেন, “অনুভব করলাম, টের পেলাম”

“আমিও, শতদলদা, আমিও অনুভব করি, বিপ্লব আসবে, ওই যে ছোটো ছোটো ছেলে মেয়েগুলো, সবুজ ক্ষেতের উপর দিয়ে ছুটে যাচ্ছে, কোথায় কেউ জানেনা, ওরা সবাই বিপ্লব!”

শেষ ট্রেনে উঠে আসেন শতদল আর জয়। দরজার দুই পাশে দাঁড়ান দুজন। অভূতপূর্ব হাওয়ায় জয়ের চুল উড়ছে, শতদল চোখ বুজে নিজের সমস্ত মনকে নিজের হাতের দিকে ধাবিত করছেন, যে হাতে এখনও যেন জয়ের হৃৎস্পন্দন লেগে আছে। শতদল গুণগুণ করছেন, কারা এই সমুখ দিয়ে, আসে যায় খবর নিয়ে।

জয় চেঁচিয়ে বলে, “শতদল দা, ধন্যবাদ”, ট্রেনের আওয়াজে তা বেশ ক্ষীণ শোনায়।

“কেন?”

“আপনি না এলে হয়তো আর কেউ আসত না,”

“কেন? তোমার পার্টি?”

“ওরা বেশি ব্যস্ত বিপ্লব নিয়ে, আমার অ্যারেস্ট বা যেকোনো শাস্তিকে ওরা আন্দোলনে টার্ন করাত”

শতদল একটু এগিয়ে আসেন জয়ের দিকে, “জয়, যদি বলি বিপ্লব এসে গিয়েছে?”

“যেমন?”

শতদল মিত্র জয়ের বুকে এক হাত রাখেন, “যদি বলি আমিই বিপ্লব?”

জয় অবাক হয়ে শতদল মিত্রের দিকে তাকিয়ে হেসে ওঠে, “হাহা, আপনি পারেনও।”

“কেন জয়, আমি বিপ্লব হতে পারিনা?”

“তা নয়, কিন্তু...”

“কিন্তু কি? বিপ্লবকে সব সময় শিশুর মত নির্মল হতে হবে তার কোনো মানে আছে জয়? বিপ্লব তো আমার মত প্রচণ্ডও হতে পারে, পারে না?”

জয় হেসে বলে, “আপনি প্রচণ্ড?!”

শতদল মিত্র জয়ের অবিশ্বাস্য কাছে এসে বলেন, “হ্যাঁ জয়, আমিই বিপ্লব।”
এক হাতে জয়ের কলার খামচে ধরে শতদল তাকে ট্রেনের দরজা দিয়ে ছুঁড়ে বাইরের অন্ধকারে ফেলে দেন। ট্রেনের আওয়াজে জয়ের চিৎকার শোনা যায় না।

“বিপ্লব কবে আসিবে কেউ জানেনা। বিপ্লব আদৌ আসিবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ হয়, সেকারণেই হয়তো তাহার দীর্ঘজীবন কামনা করা। যাতে সে অন্তত আসিবার মত অবস্থায় থাকে।” মেসের ঘরের দরজা খোলার আওয়াজ পেয়ে শতদল মিত্র লেখার খাতা থেকে মুখ তুলে তাকালেন, তিন জন অল্প বয়সী ছেলে মেয়ে, “দাদা, জয় ফিরেছে?”

“কই না তো...”

“আমরা শুনলাম আপনি ওকে লক আপ থেকে বের করে এনেছেন, তাই ভাবলাম দেখা করে যাই”

“না, না, তোমরা ভুল শুনেছো, আমি যাইনি জয়কে ছাড়াতে”

“কিন্তু থানা থেকে তো তেমনই বলল আমাদের”

“অন্য কেউ হবে, জয়ের দাদা বা বাবা...”

“ওরা তো কেউ নেই, তাই আমরা ভাবলাম আপনিই বুঝি...”

“না, আমি যাইনি”

“আচ্ছা, আমরা আসি তাহলে, জয় এলে বলবেন যেন সাথে সাথে পার্টি অফিসে দেখা করে একবার”

“আচ্ছা”

দরজা বন্ধ হয়ে যায়। শতদল মিত্র নিজের খাতার দিকে তাকিয়ে থাকেন।

ভোর রাতের দিকে মেসের জেনারেটরের কেরোসিন জারটা নিয়ে শতদল মিত্র এসে দাঁড়ান পার্টি অফিসের সামনে। নিতান্ত বেড়ার ঘর, ঘরের সামনে ভিনদেশী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের রঙচটা পোস্টার আঠা দিয়ে লাগানো। বেড়ার গায়ে চারদিক থেকে অল্প অল্প করে কেরোসিন ছড়িয়ে দেন শতদল, তারপর দেশলাই বের করে একটা কাপড়ে আগুন লাগিয়ে ঘরের এক কোণায় কাপড়টা গুঁজে দিয়ে ফিরে আসেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান খাওয়া সেরে অফিসে বেরোলেন শতদল মিত্র। হেঁটে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডের দিকে যেতে যেতে দেখতে পেলেন স্থানীয় কাউন্সিলর সাইকেল দাঁড় করিয়ে সবজি কিনছেন সব্জিওয়ালার কাছে থেকে, সবুজ সবুজ সবজিতে তার ব্যাগ উপচে উঠছে। শতদল মিত্র খুব মন দিয়ে দেখছিলেন কাউন্সিলরের এই বাজার করা। হঠাৎ একটা মোটরবাইক এসে থামল কাউন্সিলরের সামনে, শতদল দেখলেন, মোটর বাইকের পিছনে বসা ছেলেটা একটা বন্দুক বার করে কাউন্সিলরের দিকে গুণে গুণে তিনবার গুলি চালিয়ে দিল। বাজারে আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়ল সাথে সাথে। কাউন্সিলর মাটিতে পড়ে যেতে মোটরবাইক চলতে শুরু করল। পিছনে বসা ছেলেটা শতদল মিত্রের দিকে তাকাতে, শতদল তাকে চিনতে পারলেন, গতকাল সে এসেছিল আরো দুজনের সাথে জয়ের খোঁজ করতে।
ছেলেটা শতদলের দিকে বন্দুকটা হঠাৎ ছুঁড়ে দেয়, শতদল সেটা লুফে নিতেই ছেলেটা তার দিকে তাকিয়ে হাসে, মোটর বাইক তাকে নিয়ে বড় রাস্তার দিকে বেরিয়ে যায়।

শতদলের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, বন্দুকটা দেখতে দেখতে অস্ফুটে তিনি বলেন, “বিপ্লব এসে গিয়েছে।”

অফিসে না গিয়ে বিপ্লব এসে দাঁড়ালেন সেই ঘরটার সামনে, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরই বউটা বেরিয়ে এল, তার কোলে দুই তিন বছরের একটা উলঙ্গ শিশু। বিপ্লবকে দেখা মাত্রই বউটা চেঁচিয়ে উঠল। ঘর থেকে সাথে সাথে বেরিয়ে এল মাঝবয়সী একটা লোক। বউটা বিপ্লবকে দেখিয়ে বলল, “এই লোকডাই! এই লোকডাই!”

মাঝবয়সী লোকটা সাথে সাথে ঘরের সামনে রাখা দা’টা তুলে নিয়ে তেড়ে এল বিপ্লবের দিকে।

বিপ্লব ব্যাগ থেকে বন্দুক বার করে সাথে সাথে লোকটার মাথা ভেদ করে গুলি চালাল। বউটা চিৎকার করে কেঁদে উঠতে, তার কোলের শিশুটিও কেঁদে উঠল আতঙ্কে। বিপ্লব বউটার দিকে এগিয়ে গেল, বউটা তখনও চিৎকার করে চলেছে। বিপ্লব বউটার মুখের কাছে মুখ এনে বলল, “কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবি, জয় এসেছিল।” বলেই তার কোল থেকে শিশুটিকে তুলে নিয়ে হাঁটতে শুরু করল। পিছনে বউটার প্রবল ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ শোনা গেল অনেকক্ষণ। বিপ্লব এক হাতে শিশুটির হাত ধরে গুণগুণ করে গেয়ে উঠল, “বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা।”

কলেজের উলটো দিকের চায়ের দোকানে মুখোমুখি বসে আছে বিপ্লব আর শিশুটি, বিপ্লব মন দিয়ে শিশুটির চা বিস্কুট খাওয়া দেখছে।

“খেতে ভালো লাগছে?”

শিশুটি বিস্কুট খেতে খেতেই অনেক খানি মাথা ঝোঁকায়।

“আর খাবি?”

শিশুটি আবার অনেক খানি মাথা ঝোঁকায়।

বিপ্লব দোকানের ভিতরে তাকিয়ে বলে, “আরো বিস্কুট দিন”

শিশুটি হাত তুলে তিনটে আঙুল দেখায়, বিপ্লব বলে, “তিনটে বিস্কুট”

তিনটে বিস্কুট এক হাতে ধরে আরেক হাত বিপ্লবের হাতে রেখে শিশুটি রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যায়। বিপ্লব গুণগুণ করে গেয়ে ওঠে “বাজে অসীম নভোমাঝে অনাদি রব”।

বিপ্লব বলে, “মন খারাপ লাগছে না? রাগ হচ্ছে না তোর?”

“কি জন্য?”, বলে শিশুটি একটা বিস্কুট পুরে দেয় নিজের মুখে।

“তোর বাবা যে মরে গেল, তোকে যে তোর মায়ের কাছ থেকে তুলে আনলাম, এর জন্য রাগ হচ্ছে না আমার উপর?”

মুখ ভর্তি বিস্কুট নিয়ে শিশুটি বলল, “তুমি বিস্কুট দিলে যে!”

বিপ্লব আকাশের দিকে তাকাল, মেঘহীন শূন্য আকাশ, অথচ বিপ্লব যেন আশা করেছিল আজ খুব মেঘ হবে, বিশ্রী প্যাচপ্যাচে গরম পড়বে কোলকাতায়। হতাশ বিপ্লব আকাশ থেকে মাথা নামিয়ে শিশুটিকে জিজ্ঞেস করল, “নাম কি তোর?”

একমুখ বিস্কুট নিয়ে শিশুটি বলল, “বিপ্লব পাল।”

বিপ্লব অবাক হয়ে আকাশের দিকে তাকাল, মুখ না নামিয়েই গুণগুণ করে গেয়ে উঠল, “জাগে অগণ্য রবিচন্দ্রতারা”।

ঘরে ঢুকে চটি না ছেড়ে, হাত মুখ না ধুয়েই শতদল মিত্র টেবিলের কাছে এসে খাতা খুলে নির্দিষ্ট পাতায় এসে লিখলেন, “বিপ্লব আসে নাই। বিপ্লব মরিয়া গিয়েছে।” কিছুটা ব্যবধান রেখে আবার লিখলেন, “বিপ্লব মরিয়া প্রেত হইয়া গিয়েছে বহুদিন, আমরা জানি নাই, আমরা টের পাই নাই।”